Home Page Top

মেডিকেল ভর্তি প্রস্তুতি ২০২২: জৈব রসায়ন (শর্ট সাজেশন)

আসসালামুয়ালাইকুম, যারা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিবে তাদের কাছে সবচেয়ে বড় ভীতির জায়গা হল জৈব যৌগ। প্রথমত তারা কি পড়বে সেটা বুঝতে পারে না, না বুঝে পড়া শুরু করে এবং জৈব যৌগের সমুদ্রে হারিয়ে যায়। জৈব যৌগ কোন সন্দেহ ছাড়াই খুব কঠিন একটা চ্যাপ্টার, এত কঠিন মনে হওয়ার বড় কারণ হল বিক্রিয়া। 
medical-admission-preparation-2022

জৈব যৌগের শত শত বিক্রিয়া তাদের তাপমাত্রায়,চাপ ও প্রভাবক রয়েছে। এ বিক্রিয়াগুলো কে ভয় পেয়ে অনেকেই জৈব যৌগ পড়তে চায় না। তবে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং তথ্য হলো যে জৈব যৌগের বিক্রিয়া থেকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন খুব কম আসে। জৈব যৌগের কোন জায়গাটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ কোন জায়গাটা কম গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন টপিক গুলো তোমাকে পড়তেই হবে সে ব্যাপারে আজকে আমি বিস্তারিত কথা বলব। আমি চেষ্টা করব জৈব যৌগে তোমাদের কি পড়তে হবে সে ব্যাপারে একটা কমপ্লিট গাইডলাইন দেওয়ার জন্য এবং আমি যে টপিকগুলোর কথা বলছি এগুলো তোমাকে অবশ্যই পড়তে হবে। যারা আগে তেমন পড় নাই তাদের এগুলো পড়তেই হবে আর যাদের জৈব যৌগ খুব ভালো পড়া আছে তারা এই টপিক গুলো সবার আগে পড়বে তারপর অন্যান্য টপিক পড়বে। তবে আমি বিশ্বাস করি জৈব যৌগ থেকে যদি পাঁচটা প্রশ্ন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় আসে তার মধ্যে কমপক্ষে চারটা আমার সাজেশন থেকে আসবে। তবে একটা বিষয় জানা প্রয়োজন যে জৈব যৌগের প্রথম দিকের অংশ গুলো কম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের বেশিরভাগ প্রশ্নের শেষ দিক থেকে আসে। কিন্তু তোমরা জৈব যৌগের প্রথম থেকে পড়া শুরু করো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ো; শেষের দিকে এসে মনোযোগ হারায় ফেলো সময় তাই সময় স্বল্পতার জন্য ভালো করে পড়া হয়না কিন্তু দেখা যায় যে জৈব যৌগের প্রশ্ন শেষ থেকে আসছে। তোমাদের জন্য আমার পরামর্শ তোমরা জৈব যৌগ পড়া শুরু করবে শেষ থেকে তারপর শুরুর দিকে আসবা। বেশিরভাগেরই জৈব যৌগের শুরুর দিকে ভালোভাবে পড়া থাকে। তাহলে চলো শুরু করি

১. সারণী-2.5 তে চলে যাবা কার্যকরী মূলকের একটা চার্ট আছে; কোন সমগোত্রীয় শ্রেণীর কার্যকরী মূলক কোনটা সেটা লেখা আছে খুব সহজ এবং বেসিক প্রশ্ন গত 25 বছরে ভর্তি পরীক্ষায় এই জায়গা থেকে ৯ বার প্রশ্ন এসেছে যে কোন সমগোত্রীয় শ্রেণীর কার্যকরী মূলক কোনটি? তাহলে এই সারণীটা তোমরা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়বে।

২. সমানুতা অনুচ্ছেদ-2.6 এখানে কার্যকরী মূলক সমাণুতা কে কে প্রদর্শন করে এবং মেটামারিজম ও টটোমারিজম কে কে প্রদর্শন করে এটা জানতে হবে। এছাড়া আমাদের বিভিন্ন সমগোত্রীয় শ্রেণী অ্যালকেন অ্যালকিন অ্যালকাইন অ্যালকোহল এরা কি ধরনের সমাণুতা প্রদর্শন করে সেটা তোমাকে জানতে হবে।

৩. আলকাতরার আংশিক পাতন সারণী-2.9 এখানে কি কি তেল বা পদার্থ পাওয়া যায় যেমনঃ লঘু তেল থেকে কি কি পাওয়া যায়, মধ্যম তেল থেকে কি কি পাওয়া যায় ও ভারী তেল থেকে কি কি পাওয়া যায় সেটা তোমাকে জানতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো লঘু তেল থেকে কি কি পাওয়া যায়। এই সারণীর নিচে দেখবে থেকে লঘু তেল থেকে যে যে পদার্থ পাওয়া যায় এদের ভিতর ক্ষারীয় অম্লীয় এবং নিরপেক্ষ কে কে সেটা বলা আছে ওগুলো একটু পড়বে।

৪. বেনজিন ও টলুইন প্রস্তুতি অনুচ্ছেদ-2.8.2 কোন কোন পদার্থ থেকে বেনজিন পাওয়া যায় এবং কোন কোন পদার্থ থেকে টলুইন পাওয়া যায় এটা তোমাকে শিখতে হবে। এখানে কিছু বিশেষ বিক্রিয়া পাবে; এদের বিস্তারিত পড়তে হবে অর্থাৎ তাপমাত্রায়, চাপ ও কি কি প্রভাবক ব্যবহার করা হয় সব। অর্থাৎ তাপমাত্রায়, চাপ ও প্রভাবক পড়বে শুধুমাত্র বিশেষ বিক্রিয়া যেগুলো পাবে সেগুলোর (যেমনঃ উর্টজ, ফিডেল ক্রাফট, গ্রোপস, সেন্টমিয়ার বিক্রিয়া)।

৫. ইলেকট্রোফাইল এবং নিউক্লিওফাইল অনুচ্ছেদ-2.10 ইলেকট্রোফাইল পজিটিভ, নিউক্লিওফাইল নেগেটিভ এটা দেখলেই তোমরা চিনো। কিন্তু তোমরাদের ঝামেলাটা লাগে প্রশম ইলেকট্রোফাইল এবং প্রশম নিউক্লিওফাইলে। তোমাদের সুবিধার্থে বলি প্রশম ইলেকট্রোফাইল মাত্র চারটা এই চারটার বাইরে যা কিছু পাবা সবাই প্রশম নিউক্লিওফাইল। এই চারটা হলোঃ FeCl3, AlCl3, BF3 এবং SO3

৬. নির্দেশক অনুচ্ছেদ-2.10.5 আমরা জানি অর্থো-প্যারা নির্দেশক কে বেনজিন বলয় সক্রিয়কারী গ্রুপ এবং মেটা নির্দেশককে বেনজিন বলয় নিষ্ক্রিয়কারী গ্রুপ বলা হয়। অর্থাৎ যারা এই অর্থো-প্যারা নির্দেশক তারাই বেনজিন বলয় সক্রিয়কারী মূলক এবং যারা এই মেটা নির্দেশক তারাই বেনজিন বলয় সক্রিয়কারী মূলক। তবে একটা ব্যতিক্রম আছে যে অর্থো-প্যারা নির্দেশক হওয়া সত্ত্বেও বেনজিন নিষ্ক্রিয়কারী মূলক হলো ক্লোরিন

৭. ব্যবহার 2.11.4 এর পূর্বে অর্থাৎ অ্যালকোহল যে অনুচ্ছেদ থেকে শুরু এর একপৃষ্ঠা আগে ক্লোরোবেনজিন ও হ্যালোজেন অ্যালকেনের ব্যবহার পাবা এবং এটা নতুন বইয়ের অর্থাৎ 2020 সালে সর্বশেষ সংস্করণ আছে ওইটার 256 নাম্বার পৃষ্ঠায় আছে। এই 256 নাম্বার পৃষ্ঠায় যা কিছু আছে খুবই বেশি গুরুত্বপূর্ণপরীক্ষায় যেটা আসে দ্রাবক হিসেবে কোনটা ব্যবহৃত হয়, অগ্নিনির্বাপক হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়, ড্রাইওয়াশ হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়। এগুলো টানা মুখস্ত করতে গেলে দেখবা যে তোমরা ঝামেলায় পড়ে যাচ্ছো; মুখস্ত হচ্ছে না। এজন্য আগে তোমরা তোমাদের খাতায় সাজিয়ে নিতে পার তাহলে অনেক সুবিধা হবে।

৮. এরপর এই অধ্যায়ের মোস্ট ইম্পরট্যান্ট টপিক অ্যালকোহল অনুচ্ছেদ 2.11.4 অ্যালকোহল থেকে গত 19 বছরে মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা 21 বার প্রশ্ন এসেছে। অর্থাৎ বলা যায় প্রতি বছরই একটা করে প্রশ্ন অ্যালকোহল থেকে আসে। অ্যালকোহল অনুচ্ছেদে যা কিছু আছে সবই পড়তে হবে। তোমরা কোচিং থেকে বা যেখান থেকেই নোট বা অ্যালকোহলের অতিরিক্ত যা পেয়েছ সবই দাগায় দাগায় করে ফেলবা।

৯. অ্যালডিহাইড ও কিটোন অনুচ্ছেদ 2.11.7 অ্যালডিহাইড ও কিটোন থেকে তুমি যা কিছু পাবে সবাই পড়বে। এই টপিক থেকে মোট প্রশ্ন আসছে ১৪ বার

১০. নেক্সট কার্বক্সিলিক অ্যাসিড অনুচ্ছেদ 2.11.8 অর্থাৎ আমরা টানা কয়েকটি টপিক পেয়ে গেলাম এলকোহল, অ্যালডিহাইড, কিটোন এবং কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের সবকিছু পড়তে হবে। এই টপিক গুলো থেকে খুব বেশি প্রশ্ন আসে। 

* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

Ads Area